Subjects Link

দারসুল কুরআন

সূরা ভিত্তিক কুরআনুল কারীমের বাংলা অনুবাদ, তাফসীর, শব্দের তাহকীক ইত্যাদি মৌলিক বিষয়ের বিন্যস্ত সমাহার।

Hadith Icon
দারসুল হাদীস

কিতাব ভিত্তিক হাদীসের বাংলা অনুবাদ, তাহকীক, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, ফিকহী আলোচনা ইত্যাদির বিন্যস্ত সমাহার।

Quran Icon
দারসুল ফিকহ

বিষয় ভিত্তিক ফিকহী মাসআলা-মাসায়েল চার মাযহাবের দলীল-প্রমাণের আলোকে জানার এক সুবিন্যস্ত সমাহার।

Quran Icon
দারসুল লুগাহ

আরবী ভাষা ও সাহিত্যের বিভিন্ন কিতাবের বাংলা অনুবাদ, তাহকীক, ব্যাকরণ বিশ্লেষণ ইত্যাদির সমাহার

বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

দাড়ি রাখা ওয়াজিব

সকল হামদ )সম্ভ্রমপূর্ণ প্রশংসা( আল্লাহর, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। আর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত ও সালাম পেশ করছি।
দাড়ি আল্লাহ একটি মহান ও ব নিআমত। ইসলামের চিহ্ন বলে বিবেচিত দাড়ি মানেই রুষত্ব, এটি রুষত্বের পরিচয়মুসলিমের সৌন্দর্য। দাড়ি কেবল কিছুসংখ্যক চুল রাখা এমনটি নয়। এটি মহান আল্লাহর প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহের অন্যতম নিদর্শন। এর দ্বারা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায় আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ذَٰلِكَۖ وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ٣٢ ﴾ [الحج: ٣٢] 
“আর কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে এটা তার হৃদয়ের তাকওয়া হতে উদ্ভূত বা আল্লাহ সচেতনতার লক্ষণ।” [সূরা আল-হাজ, আয়াত: ৩২]
শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসায়মীন রহ. বলেন, নবী-রাসূলদের সুন্নাত ও পথ নির্দেশনাই হলো দাড়ি রাখা। সকল নবীর দাড়ি ছিল। কেউই শেভ করে নি, দাড়িতে স্টইল করেন নি মহান আল্লাহ নবী হারূন আলাইহিস সালামের প্রসঙ্গ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, যখন হারূন আলাইহিস সালাম তার ভাই মূসা আলাইহিস সালামকে বলেন,
﴿قَالَ يَبۡنَؤُمَّ لَا تَأۡخُذۡ بِلِحۡيَتِي وَلَا بِرَأۡسِيٓۖ إِنِّي خَشِيتُ أَن تَقُولَ فَرَّقۡتَ بَيۡنَ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ وَلَمۡ تَرۡقُبۡ قَوۡلِي ٩٤ ﴾ [طه: ٩٤]
“হারূন বললেন: ‘হে আমার সহোদর! আমার দাড়ি ও চুল ধরবেন না। আমি আশংকা করেছিলাম যে, আপনি বলবেন: তুমি বনী ইসরাঈলদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছো ও আমার কথা শোনায় যত্নবান হও নি।” [সূরা ত্বাহা, আয়াত: ৯৪]
তাছাড়াও দাড়ির ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম এবং সালাফে সালেহীন তথা আমাদের নেককার উত্তরসূরীরাও আমাদেরকে সঠিক পথ নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তাদের কেউই দাড়ি শেভ করতেন না।
সাহাবী কাইস ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু আনহুর দাড়ি উঠে নি। তার কাওম আনসাররা বলতো: “বীরত্ব ও সাহসিকতায় কতইনা সেরা মানুষ হলেন আমাদের নেতা কাইস ইবন সা‘দ; কিন্তু কষ্টের বিষয় হলো, তার কোনো দাড়ি নেই। দিরহাম দিয়ে যদি দাড়ি কেনা যেতো, তাহলে আমরা তার জন্য দাড়ি কিনতাম!!”

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) এর জীবন কাহিনী

১. হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)
বিশ্ব ইতিহাসে প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হিসাবে আল্লাহ পাক আদম (আলাইহিস সালাম)-কে নিজ দু’হাত দ্বারা সরাসরি সৃষ্টি করেন (ছোয়াদ ৩৮/৭৫)। মাটির সকল উপাদানের সার-নির্যাস একত্রিত করে আঠালো ও পোড়ামাটির ন্যায় শুষ্ক মাটির তৈরী সুন্দরতম অবয়বে রূহ ফুঁকে দিয়ে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন।[1] অতঃপর আদমের পাঁজর থেকে তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে সৃষ্টি করেন।[2]

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

রমযান মাসের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও এর কিছু শিক্ষা

রহমত, মাগফিতার ও নাজাতের পয়গাম নিয়ে প্রতি বছর আমাদের দুয়ারে ফিরে আসে রমযান। মানবসৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই এ মাসে সংঘটিত হয়েছে অসংখ্য ঘটনা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এ মাসেই নাযিল হয়েছে। বিজয়ের মাসখ্যাত রমযানেই মুসলিমগণ বদরের প্রান্তরে কাফিরদের পরাজিত করে ইসলামের বিজয় নিশান উড়িয়ে দিয়েছিল বিশ্বের দরবারে। রমযানের নানা ঘটনাতে রয়েছে আমাদের মূল্যবান উপদেশ ও শিক্ষা আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী নবী রাসূলদের ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন 
﴿وَكُلّٗا نَّقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ أَنۢبَآءِ ٱلرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِۦ فُؤَادَكَۚ وَجَآءَكَ فِي هَٰذِهِ ٱلۡحَقُّ وَمَوۡعِظَةٞ وَذِكۡرَىٰ لِلۡمُؤۡمِنِينَ١٢٠﴾ [هود: ١٢٠] 
“আর রাসূলদের এসকল সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি যার দ্বারা আমরা তোমার মনকে স্থির করি, আর এতে তোমার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও স্মরণ” [সূরা হূদ, আয়াত: ১২০]
﴿كَذَٰلِكَ نَقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ أَنۢبَآءِ مَا قَدۡ سَبَقَۚ وَقَدۡ ءَاتَيۡنَٰكَ مِن لَّدُنَّا ذِكۡرٗا ٩٩ مَّنۡ أَعۡرَضَ عَنۡهُ فَإِنَّهُۥ يَحۡمِلُ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ وِزۡرًا١٠٠﴾ [طه: ٩٩،  ١٠٠] 
“পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ এভাবেই আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করি। আর আমরা তোমাকে আমার পক্ষ থেকে উপদেশ দান করেছি। তা থেকে যে বিমুখ হবেঅবশ্যই সে কিয়ামতের দিন পাপের বোঝা বহন করবে” [সূরা ত্বা-হা, আয়াত: ৯৯-১০০]
অতএব, ঘটনা শুধু জানানোর জন্যই এখানে উল্লেখ করা উদ্দ্যেশ্য নয়; বরং এর থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া মূল লক্ষ্য। আলোচ্য প্রবন্ধে রমযানের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও শিক্ষা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

জান্নাত ও জাহান্নাম এর সংবাদপ্রাপ্ত নারী-পুরুষগণ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াতে যে সব নারী ও পুরুষদের জান্নাতি বা জাহান্নামী বলে ঘোষণা করেছেন বা যারা দুনিয়াতে জীবিত থাকতেই জান্নাতলাভের সু-সংবাদ অথবা জাহান্নামের দুঃসংবাদ পেয়েছেন এ নিবন্ধে আমরা তাদের নাম দলিল-প্রমাণ সহকারে উল্লেখ করতে চেষ্টা করব। একটি হাদিসে একত্রে দশজন সাহাবীর কথা উল্লেখ করে তাদের জান্নাতি বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দিয়েছেন। অনেকে মনে করেন, দুনিয়াতে কেবল এ দশজন সাহাবীকেই জান্নাতের সু-সংবাদ দেয়া হয়েছে আর কাউকে জান্নাতের সু-সংবাদ দেয়া হয়নি। কিন্তু না, এ দশজনের বাহিরেও আরও কতক পুরুষ ও নারী সাহাবী আছেন, যাদের আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন না কোন কারণে দুনিয়াতে জান্নাতের সু-সংবাদ দিয়েছেন। তিনি তাদের কাউকে জান্নাতি, জান্নাতের সরদার, জান্নাতের বয়স্ক লোকদের সরদার ইত্যাদি বলে ঘোষণা করছেন। নিম্নে আমরা দুনিয়াতে যাদেরকে জান্নাতের সু-সংবাদ এবং জাহান্নামের দুঃসংবাদ দেয়া হয়েছে, এমন পুরুষ ও নারীদের বিষয়ে একটি আলোচনা দলীল-প্রমাণ সহকারে তুলে ধরার চেষ্টা করব। আল্লাহই তাওফিক দাতা।